ইসলাম এর দ্বিতীয় রুকুন সালাত (Salat)

abaneer01

সালাত আরবি শব্দ। সালাত এর বাংলা অর্থ হচ্ছে ‘প্রার্থনা’। আল্লাহ্‌ তাআলার নিকট আনুগত্য প্রকাশের জন্য বান্দা কে যে সকল কাজ করতে বলা হয়েছে সালাত বা নামাজ তন্মদ্ধ্যে উল্লেখযোগ্য। নামাজের মাধ্যমেই বান্দার চরম আনুগত্য আল্লাহ্‌র নিকট প্রকাশ পায়। সালাত এর মাধ্যমে বান্দা তার প্রভুর নিকট প্রার্থনা বা দুয়া করে বলেই এর নামকরণ করা হয়েছে ‘সালাত’।

কালেমা, নামাজ অথবা সালাত, যাকাত, সাওম ও হাজ্জ এই পাঁচটি রুকুন এর উপর ইসলাম প্রতিষ্ঠিত। ক্রম অনুসারে সালাত বা নামাজ ইসলাম এর দ্বিতীয় রুকন। প্রথম রুকন কালেমার পরেই সালাত এর স্থান।

সারা দিনে অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় একজন মুসলমান কে পাঁচবার সালাত আদায় করতে হয়। যে সকল কাজ মুসলমানদের জন্য ফরজ অর্থাৎ একজন মুসলিম হিসেবে অবশ্য কর্তব্য তার মধ্যে সালাত অন্যতম। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জীবনের প্রতি মুহূর্তে মানুষ কে আল্লাহ্‌র কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং আল্লাহ্‌র দেয়া জীবন বিধান অনুসারে চলতে অনুপ্রেরণা দান করে। সালাত আদায় করলে তা আমাদের প্রতিমুহূর্তে আমাদের ভুলভ্রান্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ও আল্লাহ্‌ তাআলাহর আইন মেনে চলতে উৎসাহ প্রদান করে। ইসলাম এর ভিত্তি পবিত্র কুরআন এ সর্বমোট ৮২ বার সালাত কায়েম করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে – “ তোমরা সালাত কায়েম কর।” (সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত নং – ৭৮)

সালাত একা একা আদায় না করে জামাতবদ্ধ হয়ে অর্থাৎ সবাই মিলে একসাথে আদায় করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এ ব্যাপার এ কুরআন পাকে উল্লেখ আছে যে – “তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু কর।” (সূরা আল বাকারাহ, আয়াত নং- ৪৩)

মুসলমানদের সর্বশেষ নবী হিসেবে হজরত মুহাম্মাদ (সা.) কে বিবেচনা করা হয়। ইসলাম ধর্ম মতে তিনিই সর্বশেষ নবী তার পর আর কোন নবী অথবা রাসুল এই পৃথিবীতে আগমন করবেন না। তিনি জামাতে নামাজ অথবা সালাত আদায়ের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন যে – “ জামাআতে সালাত আদায় করলে একাকী সালাত আদায় করার চাইতে সাতাশ গুন বেশী সওয়াব পাওয়া যায়।”

সালাত মানুষকে সঠিক পথে থাকার জন্য উতসাহিত করে ও সৎ পথে পরিচালিত করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌ তাআলাহ বলেছেন যে – “ নিশ্চয়ই সালাত মানুষ কে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।” ( সূরা আল আনকাবুত, আয়াত নং – ৪৫)

নবীজী (সা.) আরও বলেছেন যে – “ যে ব্যাক্তি মনোযোগ সহকারে সালাত আদায় করে, কিয়ামতের দিন ঐ সালাত তার জন্য নূর হয়ে দাঁড়াবে।” তিনি আরও বলেন যে প্রতিদিন গোছল এর মাধ্যমে যেমন একজনের শরীর থেকে সমস্ত ময়লা দূর হয় তেমনি “ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত তার গুনাহ সমুহ দূর করে দেয়।” সালাত আদায় করলে এর বদৌলতে সালাত আদায়কারী নিস্পাপ হয়ে যায়। সালাত কুফর ও ঈমান এর মধ্যে পার্থক্যকারী। শরীয়তের অনুমোদিত কারণ ছাড়া কোন অবস্থাতেই সালাত ত্যাগ করা বাঞ্ছনীয় নয়।

এর ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মীয় গুরুত্ব এই যে সালাত আদায় করলে ঈমান মজবুত হয় আল্লাহ্‌ তাআলাহ সালাত আদায়কারী বান্দার সকল গুনাহ মাফ করে দেন। এটি আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়। সামাজিক গুরুত্ব হল সালাত মানুষ কে সকল প্রকার অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। ফলে সমাজে থেকে অপরাধ দূর হয়ে যায়। এছাড়াও পাঁচ বার জামাআতে সালাত আদায় এর মাধ্যমে মুসলমান গণ দিনে পাঁচবার একত্রে মিলিত হওয়ার ফলে তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক জোরদার হয়। সালাতে যথা নিয়মে রুকু ও সিজদাহ করতে হয় যা আমাদের নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলতে শিক্ষা দেয়।

পরিশেষে এক কথায় বলা যায় যে সালাত একজন মানুষের জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে সর্বাপেক্ষা বড় সহায়ক।

email



Trending Now..

baneer2

The Ruthless Speech

imh8

As per the queen speech made on May 8th in the parliament, David Cameron informed the ministers that the speech made by the queen wade an attempt to focus again on the work being done by the government for the hardworking families. This was because t....

Read More


img6